রেজবিন হাফিজ
রেজবিন হাফিজ
সফল উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক
রেজবিন হাফিজ সম্পর্কে

তিনি শুধু নিজই উদ্যোক্তা হননি পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরী করেছেন বেশ কিছু উদ্যোক্তাও। শিক্ষকতা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সেই বাঁধাধরা পেশা তাকে খুব বেশিদিন আটকে রাখতে পারেনি। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় এসএমই মেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ”বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা ২০২০”পুরস্কার পেয়েছেন রেজবিন হাফিজ।

২০১২ সালে পিপলস নাইফ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে চামড়া খাতে ব্যবহৃত ডাইসের ( কাটিং নাইফ) কারখানা গড়ে তোলেন। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “পিপলস ফুট ওয়্যার এন্ড লেদার গুডস” আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে । দেশে এসএমই উদ্যোক্তা তৈরী ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরী, সর্বোপরি জাতীয় উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে রেজবিন হাফিজ একজন সফল অনুকরণীয় উদ্যোক্তা।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার কাতলামারী খা গ্রামে ১৯৮২ সালে জন্ম নেয়া রেজবিন হাফিজ সফলতা অর্জনে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ। চাকুরীজীবী বাবা মো: জুলফিকার খান এবং পল্লী চিকিৎসক মা মোছাঃ মমতাজ খানমের দ্বিতীয় মেয়ে রেজবিন । ছোট বেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত ও মেধাবী।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেন, তারপর স্টামর্ফোড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেদার ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করে বেপজা পাবলিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রেজবিন। এরই মাঝে কেটে যায় শিক্ষকতায় দশ বছর।

স্বামী হাফিজুর রহমান পেশায় লেদার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় রেজবিন স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ঘুরতেন, সেখান থেকেই চামড়াজাত পণ্যের প্রতি এক দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করেন এবং চামড়াজাত পণ্য দিয়ে নিজের দেশকে, দেশের একটি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য রেজবিন হাফিজকে নিয়ে আসলো উদ্যোক্তা হবার ভুবনে। স্বামীর উৎসাহে মাত্র ৩ লাখ টাকা এবং একজন কর্মী এবং একটি সুইং মেশিন নিয়ে সাভারের জিরাবোতে একটি পাঁচশো স্কয়ার ফিটের ফ্যাক্টরির যাত্রা শুরু করেন উদ্যোক্তা রেজবিন হাফিজ। মাত্র ৭৫ টাকা দিয়ে একটি লেডিস ডিজাইন স্যান্ডেল বানালেন রেজবিন। আমেনা সুপার শপে স্যান্ডেল বিক্রি করে অভাবনীয় সাড়া পান রেজবিন।

নানা চ্যালঞ্জ মোকাবিলার পর বাটা’কে পণ্য সরবরাহের পর থেকে মোড় ঘুরে যায় তার ব্যবসার। এরপর এপেক্সসহ বিভিন্ন কোম্পানী ও মার্কেটের দোকান গুলোতে জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য সরবরাহ করতে থাকেন নিয়মিত। প্রায় একশো ডিজাইনের ওপর প্রোডাক্ট লাইন, অর্ডারের ভিত্তিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন কর্মী কাজ করেন উদ্যোক্তার ফ্যাক্টরিতে। বার্ষিক টার্নওভার ছাড়িয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয় উদ্যোক্তা নিজে কয়েকজনকে নিয়ে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এ শাহ মখদুম এভিনিউতে গড়ে তুলেছেন ওপেন ফ্যাশন হাউজ কনসেপ্ট এ লেদার প্রোডাক্ট জোন, যেখানে ডিসপ্লে এবং সেলস এর কাজ করছেন উদ্যোক্তা নিজেই। দেশের একটি সেক্টরকে শক্তিশালী করবার প্রত্যয় নিয়ে রেজবিন আজ তৈরি করছেন সাত’শ টাকা থেকে তিন হাজার টাকার পণ্য যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে অভিজাত ফ্যাশন ডিজাইন হাউজগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।

কারিগরি শিক্ষা র্বোড অনুমোদিত তার ট্রেনিং সেন্টার “PLG Leather Training Center” হতে এ র্পযন্ত অনেক নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন মেলার পাশাপাশি চীন ও ভারতের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন । এছাড়াও মালয়েশিয়া ও জাপানে লেদার পণ্য রপ্তানি করেছেন রেজবিন । বর্তমানে ক্লায়েন্ট লিস্ট এ আছে প্রায় ২৫ টি ছোট বড় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত, অত্যন্ত সফল একজন উদ্যোক্তা রেজবিন হাফিজ আছেন ঐক্য এসএমই ডিজিটাল ইনস্টিটিউট এর সাথে। তার সাথে অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন সম্পর্কে। আপনি ও হয়ে উঠুন একজন দক্ষ উদ্যোক্তা।