সুলতানা পপি
সুলতানা পপি
সফল উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক
সুলতানা পপি সম্পর্কে

সুলতানা পপি – তাকে বলা হয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা। তার হাত ধরে উদ্যোক্তা হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য মানুষ। বাগেরহাটের মেয়ে সুলতানা পপি। বাবা ঢাকাতে কর্মজীবনে থাকাকালীন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা আসেন পপি। এরপর পপি যোগ দিলেন ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে একটি কাজে। অনেক কিছু শিখলেন পপি সেই সময়টিতে। নারীরা অনেক নির্যাতিত হয়, তাদেরকে অনেক পিছিয়ে রাখা হয় – এটা দেখলেন পপি ফিল্ডে কাজ করতে গিয়ে। পপির মনে অনেক নাড়া দিয়ে যায় ব্যাপারটি।

পরবর্তীতে পাঁচ বছর কাজ করলেন আড়ং-এ একজন বিক্রয় কর্মী হিসেবে। পপি নানান পণ্যের প্রস্তুতকারকদের তৈরি পণ্য দেখে ভীষণ উৎসাহিত হন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে করতে যুব-উন্নয়ন অধিদপ্তরে ব্লক এবং বাটিকের ট্রেনিং করলেন পপি। নিজে শিখে ভাবলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন শেখাবেন। চাকরির পাশাপাশি অফিস থেকে ফিরে একজন দুজন করে শিখতে শুরু করলো পপির কাছে।

২০০৪-২০০৫ সাল, ধীরে ধীরে পরিসর বাড়তে থাকে। মিরপুর হোপ স্কুলের পাশে একটি কমার্শিয়াল স্পেস নিলেন সুলতানা পপি। অনেক সাড়া মিললো। ১৯৯৬-২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজে হাতে কলমে বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব, শেফ, বেকারী এক্সপার্ট এবং নানান বিখ্যাত খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামকরা ব্যক্তিদের কাছে কোর্স করলেন পপি।

মিরপুরের কমার্শিয়াল স্পেসটিতে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে আইটেম শেখান পপি। প্রথম প্রথম সেলাই, ব্লক, বাটিক, রান্না, বেকারী, ফাস্টফুড, মোঘলাই ডিস এমন কয়েকটি কোর্স দিয়ে শুরু করলেন। দুর্দান্ত ক্ষিপ্র গতিতে শেখা এবং শিখে নিজে প্রস্তুত হয়ে শেখানো এটাই মূলমন্ত্র হয়ে উঠলো পপির জীবনে। মিরপুর ১০ নম্বরে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, বিআরটিএ, হারম্যান মেইনার স্কুল এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় শতাধিক স্কুল ও কোচিং সেন্টার, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা মূল কাস্টমার এবং শিক্ষার্থী হলেন। সন্তানদের স্কুলে দিয়ে শতশত অভিভাবক শিখতে শুরু করলেন পপির একাডেমীতে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ট্রেনিং নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা, বাড়তে থাকে কোর্সও। আজ হস্তশিল্পে ৫২ টি ক্যাটাগরি, দেশীয় রান্নায় ৬ টি, দেশীয় সবজি ৭টি, মাছের ভর্তা ৪ টি, ওভেন কুকিং এ ৩ টি, কুকিং এ ৭ টি এমন হাজারো আইটেমে হাজারেরও বেশি কোর্সে ট্রেনিং দিচ্ছেন উদ্যোক্তা ট্রেনার সুলতানা পপি তার রংধনু একাডেমীতে।

প্রতিবছর ১৫০০ থেকে ২০০০ প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন কোর্স করে বের হতে থাকলেন পপির একাডেমি থেকে। কেউ কেউ কোর্স করেন বিয়ে-শাদী করে পরিবারকে একটু ভালো আর নতুন নতুন আইটেম রান্না করে খাওয়াবেন বলে। আর কেউবা কঠোর মনোবল নিয়ে কোর্স করেন উদ্যোক্তা হবার জন্য। এ পর্যন্ত তাঁর করানো কোর্স থেকে প্রায় ২০ শতাংশ উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে অনেকেই হয়েছেন আত্মনির্ভরশীল, গড়েছেন কর্মসংস্থান। একজন প্রশিক্ষক হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, এসএমই ফাউন্ডেশন, ফেভিকল পিডি লাইট, ট্রান্সকম, সিঙ্গার, এসওএস শিশু পল্লী, যুবপল্লী, এসওএস মাদার্স প্রশিক্ষণ সেন্টারে নিয়মিত ট্রেনিং দিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন সুলতানা পপি। এসিড সার্ভাইভার্স ফাউন্ডেশন এবং বি আর মেন্টর হিসেবে দিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষক সুলতানা পপি। বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সাপ্তাহিকভাবে ছাপা হতে থাকলো উদ্যোক্তার রেসিপি। সেই সাথে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল “দেশ টিভিতে ” ২০০৭ থেকে করে আসছেন নিয়মিত “দূরপাঠ” অনুষ্ঠানটি। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন আত্মকর্মে বলীয়ান হতে।

প্রথম যখন অফিস নেন পপি, তখন মাত্র তিন জন কর্মী ছিল ৷ আজ তার “রংধনু একাডেমী”-তে অফিস ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশিক্ষণ টিমে নিয়মিত ১০ জন কাজ করছেন। ২০১৬ সালে সফল আত্মকর্মী হিসেবে পেলেন জাতীয় পুরস্কার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। কোন মূলধন ছাড়াই শুরু করেছেন। ভীষণ আত্মপ্রত্যয়ী মানসিক বলে বলীয়ান সুলতানা পপি আজ সফলতার সাথে হয়েছেন একজন উদ্যোক্তা, একজন প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচালনা করছেন স্বীয় উদ্যোগ ব্যবসা ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা র্বোড অনুমোদিত তার ”রংধনু একাডেমি” হতে RTO Center কুকিং ও বেকিং এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। যেখান থেকে ৩৬০ ঘণ্টা ট্রেনিং করে লেভেল -১ ও ২ এর সনদপত্র গ্রহন করতে পারেন যে কোন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত তার ”রংধনু একাডেমি” হতে প্রায় ১০০ জন কুকিং-লেভেল-১ ও বেকিং-লেভেল-২ কোর্স শেষ করে RPL দিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদপত্র গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক সুলতানা পপি আছেন ঐক্য এসএমই ডিজিটাল ইন্সটিটিউট এর সাথে। তার সাথে দূর-শিক্ষনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন বাসায় বসে। আপনি ও হয়ে উঠুন একজন দক্ষ এসএমই উদ্যোক্তা।