তাহমিনা আহমেদ বানী
তাহমিনা আহমেদ বানী
সফল উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক
তাহমিনা আহমেদ বাণী সম্পর্কে

“এপ্লাইড আর্ট” বিষয়ে হোম ইকোনোমিক কলেজে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করবার সময় বিয়ে হয়ে যায় তাহমিনা আহমেদ বানীর। ‘আমি নিজে কিছু একটা করব’ এই প্রত্যয় নিয়ে ,এক  মুহূর্ত বসে থাকতেন না বানী। নিজে কিছু করতে সারাক্ষণ চেষ্টা করতেন এবং তা থেকে কিভাবে উপার্জন করে ,স্বাবলম্বী হওয়া যায় তাই ভাবতেন।

১৯৯৬ সালে কোল জুড়ে আসে সেমন্তী। মেয়ের প্রথম জন্মদিনে একটি কেক কিনে নিয়ে আসলেন বানী। খুব সাদাসিধে একটি কেকের সাথে একটা হামটিডামটি পুতুল বানিয়ে বসিয়ে দিলেন বানী। তারপর ধীরে ধীরে শুরু করলেন কেক বানানো শেখা । সিদ্দিকা কবির’স রেসিপিতে কেক বানানো শিখে নিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে একদিন দেখলেন ডল কেক বানানো। খুব দ্রুত কেক বানানো শিখে নিতে থাকলেন বানী।

কেকের সাথে পুতুল দিয়ে ডিজাইন করা শুরু করলেন বানী নিজেই। পরিবারের, বন্ধুদের যেকোন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে নিজের বানানো কেক বানিয়ে নিয়ে যেতেন। একটি ফেসবুক পেজ খুললেন”বানী’স ক্রিয়েশন”। প্রতিদিন একটি নতুন করে কেক বানান এবং তার ছবি তুলে দেন বানী’স ক্রিয়েশন এর পেজ এ। প্রথমে অর্ডার পেতে সময় লাগলো দেড় মাস ”মারমেইড ডিজাইনের“ প্রথম কেকটি কাস্টমারের , ভীষণ পছন্দ হলো, প্রথম কেক বিক্রি থেকে হাতে পেলেন তিন হাজার টাকা। ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়ে উঠলেন বানী। সেই সাথে বেড়ে গেল দায়িত্ববোধ।

এনটিভি কিউএফ, এনএইচটিটিআই এবং আইএলও’র যৌথ আয়োজনে একবছর ব্যাপী ”ব্রেড এন্ড কুকিস” তৈরির উপর একটি কারিগরি কোর্স সম্পন্ন করলেন বানী। উদ্যমী, প্রত্যয়ী এবং আত্মবলে বলীয়ান বানী ইন্টার্নশীপ শুরু করলেন ঢাকার এক স্বনামধন্য বেকারিতে।

২০১৭ সালে খিলগাঁও তালতলা তে প্রথম আউটলেট দিলেন বানী। ২০১৮ সালে গ্রীন রোডে দ্বিতীয় শাখা। ১৬ জন কর্মীর কর্মসংস্থান করেছেন তার প্রতিষ্ঠান ”বানী’স ক্রিয়েশন”- এ । এপর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ডিজাইনের কেক ডেলিভারি দিয়েছেন । আজ ক্লায়েন্ট লিস্টে হাজার হাজার ক্লায়েন্ট। বানী’র কেক প্রথম আলো, ডেইলী স্টার, নিটল টাটা মোটরস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ হেড কোয়ার্টারের বড় বড় সকল উৎসবে সরবরাহ হয় । আজ বানী’র ক্লায়েন্ট লিস্টে আছে শ’খানেক কর্পোরেট এবং সেলিব্রিটির অর্ডার। প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন বানী নিজেই। তার স্বপ্নের ভুবন বানী’স ক্রিয়েশন নিয়ে। আজ যেকোন থিম কেকের অর্ডার কিংবা যেকোন কাস্টমাইজড কেক যত বড়ই হোক না কেনো, তা তৈরি করে দিচ্ছেন নিমিষেই বানী। কেকের সাথে যেকোন আন্তর্জাতিক স্বাদের ডেজার্ট এর অর্ডার আর তা যত বড়ই হোক না কেন বা সংখ্যায় যাই হোক না কেনো হাসি মুখে অর্ডারগুলো গ্রহণ এবং ডেলিভারীর কাজ করছেন সুদক্ষ নিপুণতার সাথে। স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে পরিপূর্ণ পরিবেশনায় বিশ্বাসী এই উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোডের্র  অধীনে খুলেছেন নিজস্ব একাডেমী- ”বানী’স একাডেমী”, সেখান থেকে  প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তাদের, অনুপ্রাণিত করছেন হাজারো শিক্ষার্থীকে।

অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী এবং ,স্বপ্রণোদিত এই সফল উদ্যোক্তা তাহমিনা আহমেদ বাণীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, আপনিও , যদি তার মতো বাংলাদেশে কাস্টমাইজ কেকের একজন উদ্যোক্তা হতে চান, আপনার এই উৎসাহকে বাস্তবরুপ দিতে “ঐক্য এসএমই ডিজিটাল ইনস্টিটিউট” আয়োজন করেছে দূর-শিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসেইে আপনার প্রশিক্ষণ গ্রহণের সবদিক । বাসায় বসে ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ট্রেইনার তাহমিনা আহমেদ বাণী’র ট্রেনিংএর নানান দিক থেকে শিখুন, পৌঁছে যান আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।”